10 Ana Blog https://www.10ana.com/2022/09/namjari-of-land.html

জমির নামজারি করার নিয়ম | জমির নামজারি কেন করবেন? খতিয়ান


জমির খারিজ কেন করবেন? জমির নামজারি কেন করবেন? নামজারি করার নিয়ম। খারিজ খতিয়ান সম্পর্কে জেনে নিন।

দর্শক আসসালামুয়ালিকুম, কোন ব্যক্তি কোন জমির মালিকানা লাভের উপরে তার নাম সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা বা তার নামে নতুন খতিয়ান খোলার যে প্রক্রিয়া এটি সাধারণত জমির নামজারি(Namjari of land) বলা হয়। এই জমির নামজারীকে বিভিন্ন জায়গায় কিন্তু বিভিন্ন নামে চেনে। কোথাও খারিজ, কোথাও নামকর্তন, কোথাও জমি একত্রিতকরণ বা কোথাও মিউটেশন ঘুরে ফিরে একই জিনিস সেটি হচ্ছে নামজারী বা খারিজ।

জমির নামজারি

পাঠক, আপনি আপনার জমির নামজারি বা খারিজ করতে পারবেন সহকারি কমিশনার ভূমি অফিসের মাধ্যমে। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আমি রনি মিয়া আজকে জমির নামজারি এই পর্বটি শুরু করলাম। আজকের পর্বের আলোচনার বিষয় কেন আপনি আপনার জমির নামজারি করবেন বিষয়টি জানতে এবং শিখতে সম্পন্ন পর্বটি দেখুন।

জমির নামজারি কেন করবেন?

প্রিয় পাঠক, শুরুতেই জমির নামজারি নিয়ে কয়েকটি কথা বলে নিচ্ছি। আপনি আপনার জমির মালিক যেভাবে হয়ে থাকেন না কেন জমির মালিকানা লাভের পরে অবশ্যই নামজারী বা খারিজটি করে নিবেন। কারণ আপনার জমির মালিকানার পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস এই নামজারি বা খারিজ। এই নামজারি বা খারিজ করার সরকারি খরচ মাত্র 1170 টাকা। আপনি চাইলে মাত্র 1170 টাকা খরচ করে নিজেই এই খারিজটি করতে পারেন।

এজন্য নামজারীর আবেদন থেকে শুরু করে ডিসিআর কাটা পর্যন্ত সকল কাজটি আপনাকে নিজে গিয়েই করতে হবে। আপনি অন্যের দ্বারস্থ না হয়ে, তৃতীয় পক্ষের দ্বারস্থ না হয়েই আপনি যদি নিজে কাজটি করতে পারেন সে ক্ষেত্রে মাত্র 1170 টাকায় নামজারি করতে পারবেন। এজন্য আপনার জমির নামজারি করার জন্য আপনার জমির মালিকানা চেইনের যে কাগজ রয়েছে সেটি কিন্তু অবশ্যই ঠিক থাকতে হবে। 

আরো পড়ুনঃ কিভাবে নামজারি করবেন এবং ডিসিআর কাটার পদ্ধতি জেনে নিন

প্রিয় পাঠক, উপরের দেওয়া লিংক থেকে জেনে নিতে পারবেন, কিভাবে নামজারী আবেদন করবেন, নামজারী করার নিয়ম, কিভাবে নিজে নিজে ডিসিআর কাটবেন?

জমির নামজারি করার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ

এখন আমরা জানবো কেন আপনি আপনার জমির নামজারি করবেন? কেন জমির নামজারি করবেন এ জন্য সাতটি কারণে নির্ধারণ করেছি। যে সাতটি কারণের কারণে আপনি জমির নামজারি করবেন। 

১. বিক্রেতা তার জমি যেন বার বার বিক্রি না করতে পারেঃ

এটি একটি জমি খারিজ করার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মনে করুন, আপনি কলিম উদ্দিনের কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি কিনলেন। কলিম উদ্দিন সাহেব আপনার কাছে বিক্রি করার পরে যেন অন্যের কাছে বিক্রি করতে না পারে। সেজন্য অবশ্যই জমির নামজারি করতে হবে।

জমি কেনার পরে সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ড অফিস থেকে নামজারি করে আপনার নামে খতিয়ান সৃষ্টি করবেন। এবং পূর্বে যার নামে ছিল তার নাম কর্তন করে নিজের নামে নতুন খতিয়ান করলে আগের মালিক জমি আর বিক্রি করতে পারবেনা। কেননা, জমি ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নামজারি বা জমির খতিয়ান প্রয়োজন হয়।

২. যেকোনো সময় সম্পত্তি বিক্রয় করার ক্ষেত্রেঃ

রেজিট্রেশন আইন এর 52 এ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ৫৩ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তির দলিল মূলে কোন সম্পত্তির মালিক হলে। সেই ব্যক্তিটি যদি নামজারি খতিয়ান সৃষ্টি না করে, সেই ব্যক্তি যদি নামজারি না করে সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রয় করতে পারে না। তাই আপনি যেকোন সময় যেকোন প্রয়োজনে আপনি যদি আপনার সম্পত্তি বিক্রয় করতে চান। সেক্ষেত্রে কিন্তু অবশ্যই আপনার জমির নামজারি খতিয়ানের প্রয়োজন হবে। তাই আপনার সম্পত্তি যেকোনো সময় বিক্রয় করার জন্য আপনার সম্পত্তির নামজারি ঠিক করে নিতে হবে।

৩. মালিকানা হালনাগাদ করাঃ

মালিকানা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রেও আপনাকে নামজারি ঠিক করে নিতে হবে। কারণ আপনি যে জমিটির মালিক সেই জমিটির মালিক পূর্বে কেউ-না-কেউ ছির। তার নামটি কর্তন করে আপনার নামটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ, মালিকানা চেইনটা মালিকানা হালনাগাদটিও করে নিতে হবে নামজারির মাধ্যমে।

৪. সরকারকে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করাঃ

আপনি যদি কোন জমির মালিক ক্রয় সূত্রে বা দলিল সূত্রে হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে নামজারি না করেন তাহলে নতুন কোন হোল্ডিং  বা জোৎ খুলতে পারবেননা। আপনি যদি জোৎ খুলতে না পারেন এক্ষেত্রে কিন্তু সরকারকে খাজনা দিতে পারবেন না। 

তাই সরকারকে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করার জন্য আপনাকে নামজারি করতে হবে। তাই সরকারকে অবশ্যই নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করবেন।

৫. নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাঃ

আপনি যখন কোনভাবে একটি জমির মালিক হবেন বা কোন ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রয় করবেন পূর্বে ওই জমিটি কিন্তু পূর্বের মালিকের নামে খতিয়ান ছিল। সংশ্লিষ্ট অফিসে যে ডকুমেন্টস রয়েছে বা নামজারি খতিয়ান রয়েছে বা যে খতিয়ান রয়েছে সেই খতিয়ানে কিন্তু পূর্বের মালিকের নাম থাকবে।

সেই খতিয়ান থেকে নাম কর্তন করে আপনার নামে নতুন খতিয়ান খোলার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার কি করতে হবে? আপনার নামজারি করতে হবে। কারণ আপনি যদি দলিল মূল্যে সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে নামজারির মাধ্যমে নতুন খতিয়ান তৈরি করতে পারেন। নামজারি ছাড়া নতুন খতিয়ান খোলার কোন সুযোগ নেই। তাই আমি বলব অবশ্যই নতুন খতিয়ান তৈরি করুন।

৬. সরকারকে খাস জমি সংরক্ষণের সহায়তা করাঃ

৭. মামলা মোকদ্দমা থেকে রেহাই পাওয়া

আমি যে সাতটি কারণ আলোচনা করেছি, সেই উপরোক্ত কারণে সমূহের জন্য অবশ্যই জমির নামজারি করবেন। সম্পত্তির নামজারি হচ্ছে জমির খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস। তাই আপনি যেভাবে আপনার সম্পত্তির মালিক হোন না কেন সম্পত্তির মালিক হওয়ার পরে অবশ্যই আপনার জমির নামজারিটা করে নিবেন। এবং নিয়মিত আপনার সম্পত্তি আপনি খাজনা পরিশোধ করবেন।

জমির নামজারি আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ এখানে

সম্মানিত পাঠক, আমরা জমির নামজারি করার কারণ গুলো পয়েন্ট আকারে আলোচনা করেছি। আমাদের মনে হচ্ছে আপনি সামান্য হলেও জমির নামজারি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কোন একটি বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে আমাদের ফেজবুক পেজে ফলো করে ইনবক্স করুন। 

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?